নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন প্রশাসক মাহবুব ইলাহী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম'র বিরুদ্ধে ভূয়া সনদ, টোল ইজারা, খাল খনন, বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ
আপডেট সময় :
২০২৬-০৬-১৯ ১৯:৫১:৪৭
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন প্রশাসক মাহবুব ইলাহী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম'র বিরুদ্ধে ভূয়া সনদ, টোল ইজারা, খাল খনন, বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহবুব ইলাহী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের প্রশাসক মাহবুব ইলাহী
ভূয়া জন্ম সনদ প্রদান , প্রধান মন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের নাইক্ষ্যংছড়ি খাল পূনঃ খনন কাজে জনবল নিযোগে অনিয়ম ও কাজে দুর্নীতি, ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারী অর্থ আত্মসাত, পরিষদে দালালদের মাধ্যমে মিয়ানমার নাগরিকদের সনদ প্রদানের মাধ্যমে অর্থ আদায়, স্থানীয় একটি
প্রভাবশালী চক্রের সাথে মিলে নিয়মিত কক্সবাজার তারকামানের হোটেলে গিয়ে আসর জমানো, সাধারণ চাকরিজীবী হয়ে নিয়মিত বিমানে ঢাকা যাতায়াতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাইক্ষ্য্যছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের টোল আদায় ইজারা কার্যক্রমে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এরি মধ্যে ছৈয়দ নামে একজন বলেছেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দের অর্থে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে কাজ না করে তার মেযের জন্য ল্যাপটপ নিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন এসব দুই-এক হাজার টাকার জন্য করছে,
টাকা না দলে লিখে টাকা দিলে মুছে ফেলে। প্রশাসক মাহবুব ইলাহী মুঠোফোনের জানান
অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৌখিকভাবে ইজারা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সাধারণ জনগন জানান টোল ইজারা প্রকাশ্যে দিবে বলে প্রায় ১৫০জনকে সিডিউল বিক্রি করেন কিন্তু কয়েকজনকে ডাকে অংশ নিতে দিয়ে সুকৌশলে বাকিদের প্রভাবশালীদের ব্যাবহার করে চুপ রাখেন। তড়িগড়ি করে সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছেন।
তাই সাধারণ ডাককারিরা ক্ষোভে ফুসে উঠছে।
এ ছাড়া গত অর্থবছবের টোল ইজারায় সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ প্রশাসক মাহবুব এলাহীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী দরদাতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী দরদাতা সৈয়দ জানান গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন টোল আদায় পয়েন্ট ইজারার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে প্রায় ১৫০ জন ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। দরপত্রের ফরম বিক্রির মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় দেড় লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে।
তিনি বলেন, নিলাম কার্যক্রম চলাকালে টোল আদায় পয়েন্টের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া ‘হাসকালেকশন’ বাবদ পরবর্তী সর্বোচ্চ দর ছিল প্রায় ৮০ লাখ টাকা। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা প্রদানের কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দর উপেক্ষা করে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে মাত্র ৬২ লাখ টাকায় ইজারা কার্যক্রম চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে সরকার সম্ভাব্য প্রায় ৫৮ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শতাধিক অংশগ্রহণকারীকে উৎসাহিত করে বিপুল সংখ্যক দরপত্র ফরম বিক্রি করা হলেও শেষ পর্যন্ত পুরো নিলাম প্রক্রিয়াকে একটি প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসক মাহবুব এলাহী ব্যক্তিগত স্বার্থে ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে
একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দরদাতা বলেন, “আমরা সরকারি নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ দর দিয়েছি। কিন্তু সেই দর বিবেচনায় না নিয়ে গোপনে অন্যত্র ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে বিতর্কিত ইজারা কার্যক্রম বাতিল করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে টেন্ডার স্থগিতের ঘোষণার পরও পুরো ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের আগে পূর্ববর্তী নিলাম প্রক্রিয়ায় কেন সর্বোচ্চ দর উপেক্ষা করা হয়েছিল এবং কার স্বার্থে কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স